অ্যাডলফ হিটলারের বিয়ে: মৃত্যুর বাঙ্কারে এক রহস্যময় প্রেমের গল্প

ইতিহাসের পাতায় ২৯শে এপ্রিল একটি অত্যন্ত নাটকীয় দিন।১৯৪৫ সালের এই দিনে, যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন বার্লিন শহর প্রায় দখল করে নিয়েছে,

ঠিক তখন ই মাটির ৫০ ফুট নিচে এক মৃত্যুবাঙ্কারে বসে অ্যাডলফ হিটলার তাঁর জীবনের শেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছিলেন।

অ্যাডলফ হিটলারের বিয়ে

মৃত্যুবাঙ্কারের ভেতরে অ্যাডলফ হিটলার, ইভা ব্রাউন এবং এক সামরিক কর্মকর্তা টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে

১. মৃত্যুবাঙ্কারে এক বিষাদময় বিয়ে

​চারপাশে যখন কামানের গোলা আর ধ্বংসের শব্দ, তখন বাঙ্কারের একটি ছোট রুমে হিটলার তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইভা ব্রাউনকে বিয়ে করেন।

কোনো রাজকীয় আয়োজন ছিল না, ছিল না কোনো আনন্দ। উপস্থিত ছিলেন মাত্র কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মকর্তা।

বিয়ের আইনি কাজ শেষ করে তাঁরা দুজনে একটি ছোট ডিনার পার্টিও করেছিলেন।

২. কেন এই শেষ মুহূর্তের বিয়ে?

​ইভা ব্রাউন দীর্ঘ সময় ধরে হিটলারের ছায়াসঙ্গী ছিলেন, কিন্তু হিটলার কখনোই তাঁকে প্রকাশ্যে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি।

মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে হিটলার চেয়েছিলেন ইভাকে তাঁর নামের ভাগীদার করতে।

ইভাও জানতেন এই বিয়ের স্থায়িত্ব হবে বড়জোর কয়েক ঘণ্টা হবে মাত্র তবুও তিনি হিটলারের সাথে মরতেই বেছে নিয়েছিলেন।

৩. হিটলারের রাজনৈতিক উইল বা শেষ ইচ্ছা

​বিয়ের পরপরই হিটলার তাঁর রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত ‘উইল’ বা শেষ ইচ্ছা লিখে যান।

সেখানে তিনি জার্মান বাহিনীকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দেহ যেন পুড়িয়ে ফেলা হয়, সেই আদেশ দিয়ে যান।

তিনি চাননি তাঁর মৃতদেহ শত্রুদের হাতে যাক

১৯৪৫ সালের বার্লিনে ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুয়েরারবাঙ্কারের প্রবেশপথ এবং সামনে পরিত্যক্ত নাৎসি টুপি

৪. জীবনের শেষ ২৪ ঘণ্টা

​বিয়ের ঠিক পরদিনই অর্থাৎ ৩০শে এপ্রিল বিকেলে হিটলার এবং ইভা ব্রাউন আত্মহত্যা করেন।

একসময়ের প্রতাপশালী একনায়কের পতন ঘটেছিল মাটির নিচে অত্যন্ত করুণভাবে।

২৯শে এপ্রিলের সেই বিয়ে ছিল মূলত মৃত্যুর আগে এক বিষাদময় বিদায় অনুষ্ঠান।

আজকের শিক্ষা:

​১. ক্ষমতার নশ্বরতা: ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়; অন্যায়ভাবে অর্জিত ক্ষমতার শেষটা সব সময় ভয়াবহ ই হয়।

২. অন্ধ আনুগত্য: ইভা ব্রাউনের গল্প আমাদের দেখায় মানুষ কতটা চরমভাবে কারও প্রতি অনুগত হতে পারে, এমনকি নিশ্চিত মৃত্যু জানার পরেও।

৩. ইতিহাসের বিচার: সময় কাউকেই ক্ষমা করে না, সে যেই হোক  ইতিহাসের পাতায় অপরাধীদের বিচার অনিবার্য।

আজকের এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি আপনার কেমন লাগলো? হিটলারের জীবনের শেষ মুহূর্তের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে জানান এবং ইতিহাস প্রেমীদের সাথে শেয়ার করুন! Peace

ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

“অ্যাডলফ হিটলারের বিয়ে: মৃত্যুর বাঙ্কারে এক রহস্যময় প্রেমের গল্প”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন