জে. রবার্ট ওপেনহাইমার: পারমাণবিক বোমার জনক এবং এক বিতর্কিত ইতিহাস

আমি এখন মৃত্যুতে পরিণত হয়েছি, যা পৃথিবী ধ্বংস করতে পারে।”

১৯৪৫ সালে প্রথম পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষার পর এই কথাটিই মনে পড়েছিল জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের। আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং প্রতিভাবান এই বিজ্ঞানী।

জানুন সেই মানুষের গল্প, যিনি একাধারে ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল প্রতিভা এবং যুদ্ধের কারিগর।

জে. রবার্ট ওপেনহাইমার ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক সমীকরণ এবং যন্ত্রপাতির মাঝে গবেষণারত

১. একজন তুখোড় মেধা ও কৌতূহলী মন

১৯০৪ সালের আজকের দিনে নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন ওপেনহাইমার। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন ভীষণ মেধাবী।

পদার্থবিজ্ঞান ছাড়াও সংস্কৃত ভাষা এবং প্রাচীন দর্শনের প্রতি তাঁর ছিল অগাধ কৌতূহল। হার্ভার্ড আর কেমব্রিজে পড়াশোনার পর তিনি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জগতে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ওঠেন।

২. ম্যানহাটন প্রজেক্ট: ইতিহাসের মোড় পরিবর্তন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন শোনা গেল নাৎসি জার্মানি পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে, তখন আমেরিকা তড়িঘড়ি করে শুরু করে ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’

ওপেনহাইমারকে এই বিশাল প্রজেক্টের বৈজ্ঞানিক পরিচালক করা হয়। লস আলামোসের নির্জন মরুভূমিতে হাজার হাজার বিজ্ঞানীকে নিয়ে তিনি দিনরাত এক করে তৈরি করেন পৃথিবীর প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র।

৩. ট্রিনিটি টেস্ট: বদলে যাওয়া পৃথিবী

১৯৪৫ সালের ১৬ই জুলাই নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।সেই আলোর ঝলকানি দেখে ওপেনহাইমার বুঝতে পেরেছিলেন তিনি কী তৈরি করেছেন

হিরোশিমা আর নাগাসাকির ধ্বংসলীলা তাঁকে সারাজীবনের জন্য এক মানসিক দ্বন্দ্বে ফেলে দিয়েছিল। বিজ্ঞানের জয় হলেও মানবতার পরাজয় তাঁকে তাড়া করে বেড়াত।

১৯৪৫ সালের ট্রিনিটি টেস্টের পারমাণবিক বিস্ফোরণের মাশরুম ক্লাউড এবং ওপেনহাইমারের অবয়ব

৪. সম্মান বনাম বিতর্ক

যুদ্ধের পর ওপেনহাইমার পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে আওয়াজ তোলেন।

কিন্তু তাঁর এই প্রতিবাদ এবং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাঁকে নিজের দেশেই অপমানের শিকার হতে হয়। তাঁর সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে অনেকটা একঘরে করে ফেলা হয়।

তবে ইতিহাসের পাতায় তিনি অমর হয়ে আছেন সেই বিজ্ঞানী হিসেবে, যিনি মানবজাতির হাতে অসীম ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন।

আজকের শিক্ষা:

১. প্রতিভার সঠিক ব্যবহার: শুধু মেধাবী হওয়াই বড় কথা নয়, সেই মেধাকে ভালো কাজে লাগানোই আসল সাফল্য।

২. দূরদর্শিতা: যেকোনো বড় কাজ করার আগে তার ফলাফল ভালো হবে নাকি খারাপ, তা ভাবা জরুরি।

৩. দায়বদ্ধতা: নিজের কাজের ভালো-মন্দ উভয় ফলের জন্যই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত।

আজকের এই বিষয়টি আপনার কেমন লাগলো? ওপেনহাইমারের জীবন ও তাঁর কাজ নিয়ে আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান। ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না! Peace

ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন